কবিতাঃ কুমারেশ তেওয়ারী

 রাত্রির কোলাজ

অমলিন রাত্রির কোলাজ

দেখো কীভাবে গড়ে উঠছে উপত্যকা

বিনোদিনী খাম্বাজ গাইবে বলে

সামলে রাখছে তার বেণী

 

যাকে ভালোবাসা গেলে অনন্ত সাঁতারে

ছেড়ে দেওয়া যায় লুব্ধ মৌতাতের ভাষা

তেমন বিনিময়ের কাছেই তো এই ভিখিরি সাজা

তাকিয়ায় সৌখিন হেলান দিয়ে দেখা

তপস্যার শেষে কীভাবে ডানা মেলছে গাঁদাফুল

 

জল রঙে আঁকা যেন একটা নদীর ছবি

রাত্রির কোরাস মেখে ক্রমশ বিভঙ্গবিনোদক

তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের কাছে তার

পরাগের রেণু নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায়

কী পাপ আছে বলো হে সৌরনিকেতন

কামার্ত আঙুল যদি উসখুস রাত্রির রভস

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কী প্রয়োজন

যেখানে আগুন জানে কোন ছন্দে তৃপ্ত হতে হয়


দেখা

ধরো তুমি হেঁটে যাচ্ছো মাঠের উপর, সঙ্গে বন্ধু

তুমি দেখলে অয়ী লাবণ্যময়ী ফুল!

বড়ো বড়ো পাপড়িতে নান্দনিক

বন্ধু দেখলো ফুল, ফুলের ভেতরে বজ্রকীট

চেটে চেটে খেয়ে যাচ্ছে জমানো যেটুকু আলো

 

বন্ধু দেখলো গাছ, অনন্তের ছায়া নিয়ে প্রসারিত বাহু

তুমি দেখলে গাছের ভেতরে নদী

নদীর জলে স্রোতের গুণ

জ্যোৎস্না নামের মেয়ে নৌকা চালিয়ে চলে যাচ্ছে দূরে

 

দুজনের চোখেই ক্যামেরা

একই ক্ষমতাসম্পন্ন লেন্স

তবু বন্ধু দেখলো মেঘে মেঘে ঘষা লেগে বিদ্যুৎ চমকালো

দিগন্ত দিলখুশ

তুমি দেখলে চকমকি পাথর ঠুকে আগুন ধরালো প্রমিথিউস

No comments:

Post a Comment

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, কণাদ ...