আমাদের কথাঃ বিদ্রোহের ট্যাঙ্ক হয়ে উঠুক ট্র্যাক্টরগুলো


ট্র্যাক্টরটা খ্যাপা গতিতে এগোচ্ছে চলো দিল্লি। সামনে ব্যারিকেড। কিন্তু তার গভীর খাঁজ কাটা, অগ্নিবলয়ের মতো চাকা মনে হয় টপকে যাবে সেই কাঁটাতারের বেড়া। ওর উদ্দেশ্য, এক বার বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের গাড়িটার মুখোমুখি হওয়া। একের পর এক ট্র্যাক্টর এগোচ্ছে। দিল্লির রাজপথে ক্রমশ গভীর হচ্ছে তাদের চাকার দাগ। মাটিতে বসে যাচ্ছে। মনে গেঁথে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে দেশ জুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের একের পর এক ঝড় উঠছে। এই মুহূর্তে ভারত যেন সাধারণ মানুষের অধিকার, দাবি আদায়ের আন্দোলনের সমুদ্র। তাই সেখানে ঢেউ- তৈরি হচ্ছে নিরন্তর। কিছু দিন আগেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন মানুষ। সেই পলিমাটিতেই বার পোঁতা হয়েছে কৃষক আন্দোলনের বীজ। আর এই আন্দোলনকে সমাজের নিচু স্তর পর্যন্ত চারিয়ে দিয়েছে ট্র্যাক্টরের ফলা। যন্ত্র বটে। কিন্তু আকস্মিক ভাবেই তা এখন হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। রুক্ষ্ম চামড়ায়, শ্রমের কারুকার্য করা কৃষক শরীরের জীবন্ত প্রতিমূর্তি। যে এক বার তার ফলার দাগ টেনে দিতে চায় সংসদের চৌহদ্দিতে।

কাঁহাসে আতে হ্যায় ইয়ে লোগ? আরে মশাই, গ্রাম থেকে আসছে। কৃষি নির্ভর একটা দেশের গম, যব, ধান, শাকসবজির সবুজ খেত ঠেলে ওরা উঠে আসছে, দলে দলে। প্রলয়ের মতো। রাষ্ট্রশক্তির ঔদ্ধত্যকে প্রশ্ন করছে। তার শ্রেণীচরিত্র তুলে ধরছে সকলের সামনে। প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অন্যদেরও। স্লোগান-সর্বস্ব রাজনীতির পর্দা ছিঁড়ে খুঁড়ে দিচ্ছে। হ্যাঁ, দেশদ্রোহী বইকি! বিক্ষোভের আগুন বড় মারাত্মক। সীমান্তের কাঁটাতারে তাকে আটকানো যায় না।

সময় বড় সুখের। ট্র্যাক্টরের চাকার সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিচ্ছে চেতনাও। ক্রিকেটের গড’-কে গডসেবলতেও এখন গলা কাঁপছে না মানুষের। সময় মুখ থেকে মুখোশ খসে পড়ারও। কে জানে, হয়তো ট্র্যাক্টরগুলো কোনও এক সময় ট্র্যান্সফর্মার্সদের মতো ক্ষোভ আর ক্রোধের বিধ্বংসী ট্যাঙ্ক হয়ে উঠবে।

ছবিঃ অনুষ্টুপ লাই

1 comment:

  1. যযাতি দেবল19 February 2021 at 03:39

    যথার্থই লেখা হয়েছে "ট্রাক্টরের চাকার সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিচ্ছে চেতনাও।" একটি দায়বদ্ধ গদ‍্য। অভিনন্দন।

    ReplyDelete

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, কণাদ ...