কবিতাঃ অনিন্দ্য রায়

 

কিছু

 

 স্নানঘর, বালতিতে জমা আছে সে তোমারই দিদি?

এত ঠান্ডা? এতো ঈর্ষা চপারের মতো ক্ষুরধার

 

আমি তো সাবান, একটু ঘষার পরে হাত থেকে

ছিটকে পড়েছি

 

চোখ বন্ধ করে তুমি নগ্নতাকে আয়না বানাও

তোমার স্নানের থেকে গড়িয়ে আসছে জল, প্ররোচনা

                                                   সতর্কীকরণ

 

ওতে আমি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাই

 

 ঘুঙুর একটি বাদ্য, যদি না বিশ্বাস করো নিজেই বাজবে

তখন হয়তো সন্ধ্যা, হাওয়াও নাচতে গিয়ে থম মেরে আছে

অন্ধকারের কৌটো ফেটে সব ভয়ের কণিকা

                                    ছড়িয়ে পড়ছে চরাচরে

 

তুমিও উপুড়, স্তব্ধ, সংযোগহীন, অভিনেতা

 

একটি নির্লজ্জ হাত তোমাকে স্পর্শ করবে

শুরু হবে শ্বাসের

 

 লিপিগাছ, তোমার পাতায় যে ভ্রূণ ঘুমিয়ে তাতে পদবি লাগাব

পরিত্যাগে, মৃৎপাত্রে পাপের তরল এবং তা ভেঙে

            ক্ষুধার্ত শেকড়ে যেই ছড়িয়েছি ওষুধে সুঘ্রাণ

                        ঘুমের অজস্র গুটি গজিয়েছে গায়ে

 

সে-সব সারাব ভেবে আমিও কলম কিনে আনি

লিখেছি কয়েকবর্ণ, তিরচিহ্ন, সালোকসংশ্লেষ           

 

লোলুপ পাতারা আজও চিৎ হয়ে রোদে শুয়ে আছে

 

 ক্ষুরের প্রামাণ্য কন্যা, হাত কেটে বুঝি, কাঁচি তার সহায়িকা

                                     বুঝি ও অশৌচ থেকে একা ফিরে আসি

 

গ্রাম্য সাবানের লাস্য, খড়ের মহড়া, জল অর্থে শরীর ভেজানো

                        পেরিয়ে সহজ হচ্ছে, মুদ্রা ঘষে ফর্সা করে দিন

 

করে, যদি অনুরোধও করে

আকাশের নীচে ওই ছোটোবাটি, অসামান্য জল

নিজেকে চেনার মতো আমার মুখের ছায়া কোনওদিন পড়ে কি ওখানে?

 

 পাকাধান, অযৌনের মই, হেমন্ত পড়েছে যতটা তির্যক পারে

                                                ঢাকনা খোলার যত সাক্ষরতা

 

তোমার টক্সিন মুছছি তোমারই পালক দিয়ে

কাতরতা, কৃষিসভ্যতার মধ্যে নির্বাচিত করলে আমাকেই!

 

চতুর্দিকে হত্যা ফসলের গানের মতো পড়ে আছে

 

কাস্তেগুলো কেবল শুকনো

জ্যোৎস্নায় গরম হয়ে উঠতে চায় হয়তো তারাও

No comments:

Post a Comment

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, কণাদ ...