প্রবন্ধঃ বিপ্লব কোনার

 কৃষক আন্দোলন-২০২০, নতুন কৃষি আইন: সংস্কারের ছদ্মবেশে কৃষির কর্পোরেটায়ণ



সদ্যসমাপ্ত ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের পতাকা উত্তোলন ঘিরে সাংবাদিক ও বিদ্বজনদের চুলচেরা বিশ্লষণ: আন্দোলন দিকভ্রষ্ট হল হয়তো...এমনটা না হলেই ভালো হত...কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে এতে সন্ত্রাসবাদী যোগ ও আবিস্কার করে ফেলেছেন।

প্রশ্ন হল: ২৬শে জানুয়ারীতেই কি কৃষি আইনের সব কুফল দূর হয়ে নতুন ভোর চলে এলো? না। তাই দিল্লীর রাজপথে ১৫৭ জন কৃষকের আত্মবলিদানের কথা ভুলে যারা শুধুমাত্র সরকারী প্রচারে গা ভাসিয়ে অন্তিম সিদ্ধান্ত শোনাতে চাইছেন, তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে ৬৫ দিনেরও বেশী অতিক্রান্ত কৃষক আন্দোলন প্রতিকুলতার বুকে পদচিহ্ন এঁকে এগিয়ে চলেছে। শাসকের রক্তচক্ষু ও আর কাজে লাগছে না...কাঁপুনি ধরে গেছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক সরকারের বুকেও!

     সরকারের ১১ টি লোক দেখানো বৈঠক আর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সরকারকে লোকঠকানো ভৎর্সনা করে একটি কৃষিপ্রেমিক কমিটি গঠন করে তিন কৃষি আইন পর্যালোচনার মেকী প্রচেষ্টা স্বত্ত্বেও রাজধানীর হাড়কাঁপানো শৈত্য উপেক্ষা সারা দেশের কৃষকদের প্রতিনিধিরা অনড়- দাবীঃ তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার। তাদের ৬৫ দিনের অপরাজিত সংগ্রাম বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে-

     কী আছে এই তিন কৃষি আইনে? সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচিত কৃষিবিল কেন ব্যর্থ হল? কিসের টানে এই মরনপন অবস্থান? এই আলোচনায় যাবার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন তথ্যে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাকঃ

(ক) কৃষি ও জমি- এই দুটিই রাজ্যসরকারের এক্তিয়ারভুক্ত (যৌথ তালিকাভুক্তও না) হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের সাথে আলোচনা ছাড়াই, মার্শাল দিয়ে বিরোধীশূন্য সংসদে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে অর্ডিনান্স জারি করে পাশ করা হল তিন কৃষি আইন।।

খ) কৃষকদের অনমনীয় মনোভাবে সরকারও যখন প্রবল চাপে তখন সকারের হাতের পুতুল সুপ্রিমকোর্ট (বিগত বেশকিছু রায়দানে যা স্পষ্ট) যে কমিটি গড়ল, তার সব সদস্যই প্রকাশ্যে বিলের সমর্থক।

     গ) বিগত ৬২ দিন ধরে চরম কষ্টের মধ্যে কৃষকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেই যে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল, সরকারের পদলেহনকারী মিডিয়া কিন্তু প্রথমদিন থেকেই কৃষকদের এই আন্দোলনকে হেয় করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। প্রমান করতে চাইছিল এরা আদৌ কৃষক নয়, আসলে মার্সিডিজ চড়া বুর্জোয়া। ২৬শে জানুয়ারী পরে তো বিচ্ছিন্নতাবাদী যোগ প্রমাণ করতে ব্যস্ত, হয়তো পাকিস্তানের চর বলতেও পিছপা হবে না। নয়া জাতীয়তাবাদ অনুযায়ী সরকারের বিরোধিতা চলবে না, তাহলেই চীন বা, পাকিস্তানের চর দাগিয়ে দিতে হবে, পাবলিক খাবে ভালো। চলবে শুধু দশলাখি স্যুট পরে হাজার হাজার কোটি টাকার বিমানে চড়ে সন্ন্যাস পালন, ধর্মের জিগিরে মানুষকে বিভাজনে মাতিয়ে রেখে দেশটাকে বিক্রী করে দেওয়া?

     এই ভূমিকার প্রয়োজন পড়ল পরিস্থিতির গভীরতা, কৃষক আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে। ইতিমধ্যেই এই কৃষক আন্দোলন কার্যতঃ সারাভারতব্যাপি বৃহত্তম কৃষক আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করছে। তাদের সাথে যেখানে সরকারের আলোচনায় বসার কথা, তার পরিবর্তে সরকারের পক্ষে সাফাই গাইছে কর্পোরেটরা।।

     কী আছে তিন কৃষি আই ২০২০ তে? কী এমন পরিবর্তন হচ্ছে যার জন্য এই আন্দোলন? মোদ্দা কথায় যা আছে তার নির্যাস হল:

১) ধান, ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজ, গম, চিনি সহ ২০ টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে সরকারী নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তিপ্রদান। যতখুশি মজুতের ছাড়পত্র।

২) চাষীর ফসল বিপননে খোলা বাজার তৈরির স্বপ্ন- বেসরকারী সংস্থা ও কর্পোরেট ও বিদেশী বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া। ন্যুনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণেও সরকার কোনরূপ হস্তক্ষেপ করবে না।

৩) বেসরকারী সংস্থা ও কর্পোরেট ও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কৃষকদের সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে কৃষির পরিষেবা ও ফসলের দামে নিশ্চয়তা দেবার ছলে চুক্তিপ্রথার প্রবর্তন। কৃষকের অভিযোগ থাকলেও আদালতের স্মরণাপন্ন হতে পারবে না।

     একসময় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-র চোখে চোখ রেখে বাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধাচরণ করা ভারত সরকারের বর্তমান নির্লজ্জ আত্মসমর্পন যে সম্ভাবনাগুলিকে উসকে দিচ্ছে সেগুলি একবার পর্যালোচনা করা যাক :

     ভবিষ্যতে নিত্যাপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলির উৎপাদনও নিয়ন্ত্রণ করবে চুক্তিবদ্ধ বৃহৎ পুঁজির কর্পোরেটরা। তারপর গুণমাণের ঘাটতি অথবা, চাহিদার নিরীখে স্বল্পমূল্যে কিনে মজুত করার সীমাহীন ছাড়পত্র...কৃত্রিম অভাবের দোহাই, দীর্ঘ মজুতদারি ও কালোবাজারির ফলে ব্যপক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সম্ভাবনাকে উস্কে দিতে বাজার থেকে ২-৫ টাকা দরে কেনা বাঁধাকপি জিওমার্টে প্যাকেটবন্ধী হয়ে ৩০০ টাকা দরে বিক্রী হওয়া শুরু হয়েছে। ঠিক যেমন ভাবে কয়েক বছরের ইতিহাসে পেঁয়াজ ১২০ টাকা, অড়হর ডাল ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রী হয়েছিল। সরকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির তদন্তে উঠে আসে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতির গল্প। আর এখন আইনের নিয়ন্ত্রন উঠে যাবার পর কত লক্ষ কোটি টাকার কালোবাজারি হতে পারে সহজেই অনুমেয়।

     এরপরের ধাপে এল বিপনন। চালু করা হচ্ছে মুক্ত বাজার। APMC বা কৃষিপন্য বিপনন কমিটিগুলি দ্বারা নাকি এতদিন কৃষক শোষিত হচ্ছিল- তাই তাদের মুক্তি দেবার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার উদার আহ্বান জানালেন বেসরকারী পূঁজিকে। নূ্ন্যতম সহায়ক মূল্য বা MSP নির্ধারিত করে দেওয়া স্বত্ত্বেও যেখানে সরকার নির্ধারিত ন্যুনতম সহায়ক মূল্য পায়নি কৃষক, সেখানে বড়ো কর্পোরেট হাঙরেরা তাদের সঠিক মূল্য দেবে স্বেচ্ছায়—বিশ্বাস করতে হবে? সরকার নতুন আইনে কৃষকদের এই ন্যুনতম সহায়ক মূল্য বা MSP-র রক্ষাকবচ রাখছে না কেন? আহা! তাতে যে রিলায়েন্স, আদানী, পেপসি কোম্পানি রাগ করবেন। কয়েক হাজার কোটি টাকার কর্পোরেট ডোনেশন ছাড়া নির্বাচনী বৈতরণী পার করা সম্ভব কি? তাহলে কৃষকদরদ দেখাবার সুযোগ কোথায়? ৫৬ ইঞ্চির ছাতি যে ওইখানেই চুপসে যায়!

 

     আর সবচেয়ে চিন্তার বিষয় পরের ধাপটি। এখন থেকে কর্পোরেট সংস্থার সাথে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ হতে পারে কৃষক, পাবেন বিভিন্ন কৃষি পরিষেবা ও মূল্য নিশ্চয়তা। অন্ততঃ মোদী ও কোম্পানীর তাই ভাষ্য। শুনতে তো ভালোই, কিন্তু, বিনিয়োগকারী সংস্থার চুক্তি করার পূর্বশর্তই হল বিনিয়োগকারী সংস্থার ইচ্ছামতো শস্য চাষ এবং তাদের নির্ধারিত পথে। ফসল নষ্ট বা অন্য কারনে কৃষক ক্ষোভও জানাতে পারবেন না, আদালতে যেতেও পারবেন না। সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার এই অপচেষ্টা কোন উদ্দেশ্যে? কতিপয় বৃহৎ কর্পোরেটের সুবিধা করে দেবার জন্য।

     ফলাফল এখনই দেখা যাচ্ছে না অথচ এই আশঙ্কা করার কারণ কি? অভিজ্ঞতা লব্ধ ফলাফলগুলি দেখা যাক্ :

     ২০০৬ থেকে বিহারে APMC-র অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে, ধানের দর আজ ৮০০-১১০০ প্রতি কুইন্ট্যাল, যা MSP ২৩৪০ টাকার অর্ধেকেরও কম। পশ্চিমবঙ্গে মেকী কৃষকদরদী সরকার সহায়ক মূল্য দিচ্ছে ১৮৬৮ টাকা। একমাত্র কেরালাতে ধানের কুইন্টাল প্রতি মূল্য ২৭০০ টাকা।

     ইতিমধ্যেই FCI কে দুর্বল করে তার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করা হয়ে গেছে, সরকারের কাছে প্রাপ্য ৩ লক্ষ কোটি টাকা দিতে পারবে না সরকার, ফলতঃ? যা ভবিতব্য: FCI এর মজুত করার পরিকাঠামো গড়তে ডাকা হয়েছে আদানী গোষ্ঠীকে। সরকারী মজুত ভান্ডার না থাকলে কালোবাজারী যে কি পরিমাণে হতে পারে তা নিশ্চয়ই বলে বোঝাতে হবে না!

     সরাসরি কৃষকের দুর্দশা ঘটলে তার কী কী ফলাফল হতে পারে? কৃষি আইনের দ্বারা কিন্তু গবাদি পশুপালন, হাঁস-মুরগী, মাছ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, গোখাদ্য, তুলোর বীজ, পাট সবকিছুকেই APMC র আওতা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলতঃ এই সমস্ত দ্রব্যগুলির সঠিক দাম থেকে উৎপাদক যেমন বঞ্চিত হবে, তেমনি মজুতদারের ইচ্ছা অনুযায়ী উপভোক্তা, মানে সকল শোষিত শ্রেনীর আমরাও হব। তখন ৫০ টাকা কেজি আলু, ২০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ থেকে ৩০০ টাকা কেজি কপি- সে আপনি চান বা না চান কিনতে তো হবেই- চালের দাম কোথায় থাকবে তার নিশ্চয়তাও নেই।

     আর, পরোক্ষভাবে, গ্রামীন অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে ব্যাপকভাবে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি, যারা শস্য বিপনন, গবাদি পশুপালন, দুগ্ধজাত দ্রব্য বিপনন ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলেন, তারা অবিলম্বে কাজ হারাবেন। ছোটো ব্যবসায়ী, এমনকি কৃষক মাণ্ডিগুলিও বৃহৎ কর্পোরেটের কাছে হার মানতে বাধ্য। FCI এর অনুপস্থিতিতে বেসরকারী বৃহৎ পুঁজির মনোপলি রুখবার কেউ থাকবে না। সরকার তো তার প্রভুদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই বদ্ধ পরিকর!

     যুক্তির উত্তরে মোদী ও তার কোম্পানির জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া হল: এই নতুন আইন ফসল উৎপাদন, তার মজুত ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মুক্তপরিবেশ তৈরী করবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ ঘটবে। কীভাবে? তা জানতে চোখ রাখতে হবে ২০১৯ সালে কৃষিবাণিজ্য ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত ২২ টি কোম্পানীর গঠনের দিকে। এমনকি হরিয়ানায় কৃষিজমির চরিত্র পরিবর্তনের অধিকারও পেয়ে গেছে তারা বিজেপি রাজ্য সরকারের বদান্যতায়। কোম্পানীর মালিক আর কেউ নন- প্রধানমন্ত্রীকে চাটার্ড বিমানে চড়তে দেওয়া আদানি। কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য দেশের কৃষিকে সংস্কারের নামে কর্পোরেটের হাতে তুলে দেবার প্রক্রিয়ার প্রাকশর্তই হল সব সরকারী  নিয়ন্ত্রণ তুলে কৃষিজ ফসল উৎপাদন ও বিপননে কর্পোরেট বিনিয়োগ বান্ধব পরিস্থিতি তৈরী করা।

     চুক্তি-উৎপাদন যে নীলকরদের ও হার মানাবে না তার গ্যারান্টিও সরকার দেয়নি। অথচ আগ বাড়িয়ে আদানি আম্বানীরা ঘোষনা করে ফিরছেন যে তারা চুক্তিচাষ করবেন না। আহা! “ঠাকুর ঘরে কে?—আমি তো কলা খাই না!!”

     কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত কৃষিজমির চরিত্র পরিবর্তন, ইচ্ছানুযায়ী উৎপাদন, উৎপাদকের স্বনির্ভরতার পরিবর্ত্তে কৃষিবিপননে এগ্রিপ্রেনিয়রসিপ প্রবর্তন করে সংস্কারের নামে কার্যতঃ বাজার অর্থনীতির কাছে কৃষিকে বিক্রী করে দেবার সরকারি চক্রান্তেরই ফলশ্রুতি তিন কৃষি আইন।

     এই বিশাল বাজারকে প্রসারিত করে খুলে দিতে হবে রাজ্য থেকে দেশে, দেশ থেকে বিদেশে। আর  তাইতো পরিকাঠামোগত সংস্কারের সামে বেসরকারী বিনিয়োগকে উৎসাহদান।

     কিছুদিন আগের ঘটনা, বেসরকারী বিনিয়োগ চালু কৃষিবীমায় : বিশিষ্ট কৃষি ও গ্রামভারত বিশেষজ্ঞ পি. সাইনাথ মহারাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন, মাত্র একটি জেলায় রিলায়েন্স কোম্পানী বীমার প্রিমিয়াম বাবদ ২ লক্ষ ৮০ হাজার কৃষকের কাছে পায় ১৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে পায় ৭৭ কোটি টাকা করে... অর্থাৎ, মোট ১৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু, ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের দিতে হয়েছে মাত্র ৩০ কোটি টাকা।এটাই নতুন বীমা আইনের ধারা। এক পয়সার লগ্নি না করেও ১৪৩ কোটি টাকার মুনাফা!! বাহ ভাই বাহ!! মোদীজী হ্যায় তো সব মুমকিন হ্যায়! প্রথম দুই বছরেই বীমা সংস্থাগুলির মুনাফা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা! অথচ ফসলের দাম না পাওয়া কৃষকের আত্মহত্যার তালিকা লম্বা থেকে লম্বাতর হয়ে চলেছে।

     আর মোদী সরকার? তার কৃষিমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকেই সীমাহীন মিথ্যা দিয়ে মানুষকে সরিয়ে দিতে চাইছেন মূল সমস্যা থেকে। তাই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট, রামমন্দির, ইত্যাদি দিয়ে মানুষকে পরিচালিত করতে চাইছে বিভাজনের ঘূর্ণাবর্তে। ফ্যাসীবাদী কায়েমী স্বার্থ চিরকাল এই পথই অবলম্বন করেছে—সামাজিক সংস্কার হবে ধর্মের আবহে আর, অর্থনৈতিক সংস্কার হবে কর্পোরেট স্বার্থে।

     ভুক্তভোগী কিন্তু গরীব আর মধ্যবিত্ত জনসাধারণ। এরপর শুধুমাত্র কৃষক আত্মহত্যা করবে না, যুক্ত হবে উপভোক্তাও। তাই দিল্লীর রাজপথে কৃষকদের এই আত্মবলিদানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, নইলে ১৫৭ জন কৃষকের আত্মবলিদান আমাদের কাঁধে- প্রতি ১২ মিনিটে একজন কৃষকের আত্মহত্যার দায়ভারও যে প্রাপ্য হয়ে থাকবে তা বলাই বাহুল্য।

লোগোঃ অনুষ্টুপ লাই

No comments:

Post a Comment

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, কণাদ ...