শিরোনামহীন
গাছতলার মাটি কামড়ে পড়ে থাকা
এই কটা খড়কুটো প্রাণ
ঝুঁকে পড়ে যখন,
অধৈর্য সময় বহু দূরের বাঁকে মালুম করে রেলগাড়ীর হেডলাইটের আলো!
স্ব স্ব ব্যস্ত জনজীবন, ভয় ভুলে ভেতরে ভেতরে উদগ্রীব
প্রতিটা হৃদয়ে তখন গাঢ় নীল আকাশ,
চৈত্রের কালবৈশাখীর উন্মাদনা,
প্রতিটা সবুজে এক নব জন্মের অঙ্গীকার!
রামধনুর ট্যানেল পেরিয়ে দ্রুত ছুটে আসছে কুউউউউউ ঝিকঝিক ঝিকঝিক ঝিকঝিক,,,
বুক আগলে চোখের কালো মণিতে
ছবি ফুটে ওঠে নরম রোদ্দুরের।
বাঁধা পড়ে যায় এক অনন্ত 'তুমি'.….
অপেক্ষারত পরের স্টেশনের জন্য!
কটা কথা
কবিতা গল্প কেমন এলোমেলো
রাতের আকাশ ধুসর মরুভূমি
বৃষ্টি জলে ভাসছে যখন শহর
কোথায় আমি কোথায় তখন তুমি!
কোথায় তখন কয়েক কোটির দেশ?
কলাপাতায় আলুরচোখা ভাত
কাঁধে বোঝা ছুটছে জনজীবন
কেউ বলছে মেয়েটা বজ্জাত
ছেলেটা তখন মেঘ পিয়নের চিঠি
ছেলেটা তখন দুচোখ ভরে চায়
নদীর মতো চোখের জলে শ্রাবণ
পরিস্থিতি আজকে বদলায়।
এই ইতিহাস প্রাচীন কুলুঙ্গিতে
দেওয়াল জুড়ে পোড়া মাটির বাঁশি
গভীর গোপন মুঠোখানেক ভয়
এই ইতিহাস একলা সর্বনাশী।
গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে গাছ
সন্ধ্যে নামে, রঞ্জন না কিশোর!
মেয়েটা তখন অবাক অভিমান
মেয়েটা ভাবে এখনো আমি তোর?
উপন্যাস আর খয়রাতি সামিয়ানা
সমাজ,
পাখি, উড়ন্ত গাঙচিল
বুকের ভেতর মেয়েটা পদ্য লেখে
শিকড় বিহীন গাছেরা কিলবিল!
দুচোখ তখন খুঁজছে হন্যে হয়ে
ঈশ্বর না প্রসাদ উপাদেয়?
পাগল তখন নন্দিনী আঁকিবুকি
শুকনো মুখে বলেছিল, তুমি যেও।
আকাশ ভাঙে ভাঙতে থাকে মন
হিসেব নিকেষ খেরোর খাতায় জমা
সেই ছেলেটা লুকিয়ে বলেছিল
ওই মেয়েটাই আমার প্রিয়তমা।
কি জানি!
তুমি কি সিসিফাস?
পাথর তুলে নাও কাঁধে?
তুমি কি কলাভবনে থাকতে?
তুমি কি রামকিংকর?
স্বপ্ন ছুঁয়ে রাতভোর অন্ধকারে বসে থাকো,
ছেনি আর হাতুড়ি নিয়ে?
তোমার উলঙ্গ শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চাঁদের আলো...
তুমি চোখ জ্বেলে বসে আছো
স্তন বৃন্তের ওপর।
ডাকবাক্সের ভেতর নষ্ট খামে
একরাশ ধূলো!
আমার সারা শরীর জুড়ে
তোমার অজুহাতের নিয়ন আর অপবাদের স্মারক!
তা হোক....
তবু
দর্শকের আসনে স্পট লাইট পড়তেই দেখলাম,
আমি আস্তে আস্তে কেমন তুমি হয়ে যাচ্ছি!
আলতামিরায় ফিরতে চাই
ঝড়ের পর কারো খোঁজ নিতে ইচ্ছে করেনি আর
গোঙানি আর হাহাকারের মধ্যে তলিয়ে গেলে, বোধ বুদ্ধিও লোপ পায়!
মরা মাছের স্থির চোখের মতো ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি সামনের দিকে
কার খোঁজ নেবো?
যেন টিভির পর্দার এক একটা মৃত দৃশ্য সরে সরে যাচ্ছে, হাত ছোঁয়া দুরত্বে!
আমি স্থবির বসে থাকি খাটের এক কোনে
ঢুলুনি এলেই বইয়েদের কঙ্কাল এসে ভিড় করে
চমকে তাকিয়ে দেখি,
উনকোটি দেবতার মোমবাতি মিছিল
সার বেঁধে চলেছে স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে!
আমার ভাঙাচোরা 'আমি'টা হামাগুড়ি দিতে গিয়ে উঁচু থেকে পড়ে যায় নিঃশব্দে
হিমোসায়ানিনে তৈরী সাদা রক্ত দেখতে থাকে,
অসুস্থ মাটির ওপর ঝড়ের ধর্ষণ!
বোঝে,
ভগবানও মানুষের মতো নিরুপায়, পক্ষাঘাতে পঙ্গু,
'জাহির' আঁকড়েই বেঁচে থাকতে চায় শুধু!
ছবিঃ প্রমিতা দত্ত

No comments:
Post a Comment