উত্তররামচরিত
১
প্রেমিক , মৃত্যুকে অতিক্রম করে হাঁটতে হাঁটতে
অনেকদূর কয়েক হাজার মাইল পেরিয়ে
তোমার মজবুরির মুখোমুখি ,
তোমার গ্রামের বাড়ির
সন্ধ্যাতারাটির একেবারে সামনে,
তুমি পৌঁছে গেছ ধর ।
ধর, নতুন একটি মঙ্গলকাব্য
ইতিমধ্যে লেখা হয়ে গেছে । সেখানে তুমি
ক্রুদ্ধ ও ধীরোদাত্ত ভাবী উপাসক । অথচ টের পাওনি
কথক কে ? কী উদ্দেশ্যে গান ?
শুনেছ সে-চত্বরে বাঁশি তুমি, কাঁসর ,
দেহশূন্য আনন্দিত ঢোল।
চুলো থেকে রামচরিত্রের
মৃদু বিশ্বাসপ্রবণ ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে মেঘে ।
২
তুমি রাখাল নও সে- উঠোনে,স্বয়ং
তুলসীদাস-বাল্মীকি-কৃত্তিবাস---
একত্রিত অখণ্ড তালুক ।
রাজারা তোমাকে কদমবুশি করতে ভোলে না !
ভিখিরিরা তোমাকে দেখে রাজা ।
চারপাশের রঙ্গ দেখে ঘুঘু ডাকে 'বহুৎ খুব '।
৩
ঠিক সেই মুহূর্তে
কোনও রমণীয় মারপ্যাঁচে ,
কোনও অব্যর্থ দরজা খুলে যাওয়ার
কাতরানির ভিতর , তোমার উপোসি দুলহনকে
দেখতে পেয়ে যাও তুমি,
যার কাজলধ্যাবড়ানো চোখদুটির
ক্লান্তির আর লাস্যের পিছনেই
মায়ের মলিন স্নেহগন্ধের মতো,
বেগারখাটা বাপের চালহীন আশ্রয়ের মতো নিশ্চল
দাঁড়িয়ে রয়েছে বিষণ্ন বাস্তুসাপ,
ঈশ্বরবিশ্বাসী নিটোল একতাড়া রুটি,
কিংবা একটা অবিনশ্বর প্ৰাৰ্থনাসংগীত ।
৪
কোন পুরোহিত এতদিন ধরে
গেয়ে চলেছে এই গান ?
তুষারসিক্ত পুরোনো অক্ষরগুলি হারিয়ে গেছে ,
যতি মুছে গিয়ে শ্যাওলা জমেছে শিলায়, পরানে,
নখ দিয়ে সুর ছিঁড়ে নিচ্ছে ঝোড়ো হাওয়া ,
তবু দেহাতি জ্যোৎস্নাচর থেকে নোনা মরুভূমি
আপরিধি কোন বিশ্বাসে ফিরে ফিরে আসছে সেই
নাছোড় সঞ্চারী , আদিম অন্নসূক্ত !
সাক্ষাৎ কৃতান্ত হয়েও আখর চেন না ।
৫
ফলে কাব্য আজও অক্ষুণ্ন, তার অভঙ্গুর প্রতি পদক্ষেপে
তোমারই ছায়া, তোমারই উদাসীন
থাবা চেটে নেওয়ার ভঙ্গি ও
দেশভক্ত রেললাইনেরা
বগলে খঞ্জর নিয়ে
তোমার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে । বসে । শুয়ে পড়ে ।
করুণ সঞ্জীবনী , আন্তরিক মৃত্যুর মতো ।
No comments:
Post a Comment