‘প্রথম রৌদ্রের আলো সর্বদেহে হোক সঞ্চারিত’
বিশ্বযুদ্ধ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্রাজ্যবাদ রবীন্দ্রনাথের মননকে, চৈতন্যকে বারেবারে ছিন্নভিন্ন করলেও প্রেম, মানবতা, সৌন্দর্য ও কল্যাণ সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস কোনোদিনই নষ্ট হয় নি। সমগ্র রবীন্দ্রসাহিত্যে তাই দেখতে পাওয়া যায় এই কল্যাণের জয় ঘোষণা। পৃথিবীতে তিনি দেখেছেন অসংখ্য দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, জরা, মরণ কিন্তু সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে তাঁর মন ধরিত্রীর ধূলির ভেতর থেকে সৌন্দর্যের মধুর রসকে নিংড়ে নিতে পেরেছিলেন। দুঃখবোধের প্রকাশ যে ঘটে নি তা নয়, কিন্তু দুঃখের সেই বীজ কখনই বিষাক্ত হয়ে ওঠেনি। রবীন্দ্রনাথের একেবারে শেষ কবিতাতে পাওয়া যাচ্ছে “অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে/ সে পায় তোমার হাতে/ শান্তির অক্ষয় অধিকার”। আসলে এই ছলনাকে চিনে নিতে হবে আমাদের। কেননা কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মধ্য দিয়েই তো প্রকৃত অমৃত উঠে আসে। রবীন্দ্রনাথ জানতেন রক্ত ও মারী কখনই শেষ কথা নয়। শেষকথা মানুষের ভালোবাসা, মানুষের বিশ্বাস। চাই মানুষকে ভালোবাসার প্রবল ইচ্ছা, ভেতর থেকে মানুষকে চিনে নেওয়ার ক্ষমতা। তমিস্রার অগ্নিবাষ্প অবিরত উড়ছে হাওয়ায়, ধূসর ধোঁয়াময় হয়ে আছে পৃথিবীর কোমল আঁচল, দুঃখের প্রবল তাপে কুঁকড়ে যাওয়া চামড়ায় আরো কোনো ক্লান্তি জড়িয়ে আছে তবুও এই সমস্ত অবগুণ্ঠনের ভেতর কেউ এমন একজন আছেন নীল উত্তরিয় ও রঙিন আঙরাখায় নিজেকে ঢেকে, নভোনীল ভেদ করে উঠছে তার শ্বেত চূড়া, সোনালি আলোয় জ্যোতির্ময় হয়ে উঠেছে তার হাতের রেখা। রবীন্দ্রনাথ এই প্রেমিক পুরুষের, কমনীয় নারীর দিব্যতাকে, প্রেমের অপূর্ব ছটাকে শিল্পায়িত করে গেছেন শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত।
সমস্ত তৃপ্তির ভেতরেও এক অতৃপ্তির বোধ কাজ করত বলেই কবি এমন করে নিজেকে ভাঙতে পেরেছেন। তাই প্রকৃত সমাপ্তির কোনো নিশ্চিত বিন্দুর কাছে তিনি চৈতন্যকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি, তাঁর মন বারে বারেই আরো কোনো গভীর বিপুল প্রসারণের কাছে নত হতে চাইত। ঐ সীমাহীনতার ভেতর থিতিয়ে থাকা মানবতার যে উষ্ণ পরাগ রঙের পাপড়ি ঘিরে ছড়িয়ে দিচ্ছে বন্ধনের সুষমা আর আকর্ষণের লাবণ্য তার বিচ্ছুরণকে টের পেতে চেয়েছিলেন মনে প্রাণে। বিশ্বকে একইসঙ্গে উপভোগ করা আর বিশালতাকে অর্জন করা এই দ্বৈধমার্গকে তিনি নাড়ির আয়তনে ধরেছিলেন। একটি সুকুমার লালিত্যের কাছে সৃষ্টির নিবিড় প্রাণ নতুন ভাষায় নব বীজাঙ্কুরে প্রতিনিয়ত ঝিকিয়ে ওঠে সেই গুপ্ত সঞ্চারে অবগাহন করার সুতীব্র ইচ্ছা থেকে জন্ম হয়েছিল তাঁর সৃষ্টির এষণাটুকু। বৈপরীত্য যে ছিল না তা নয় তার মধ্যেও ছিল আশ্চর্য রকমের অঙ্গীকার –
আমি বাস করি
তোমার ভাঙা ঐশ্বর্যের ছড়ানো টুকরোর মধ্যে।
আমি খুঁজে বেড়াই মাটির তলার অন্ধকার,
কুড়িয়ে রাখি যা ঠেকে হাতে।
আর তুমি আছ
আপন কৃপণতার পাণ্ডুর মরুদেশে
পিপাসিতের জন্য জল নেই সেখানে উদাসীন, পত্রপুট
কবি যাঁর কাছে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাইছেন হয়তো তাঁর কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যাবে না জেনেই আরো বেশি করে ভালোবাসতে পারছেন। আসলে চাওয়া পাওয়ার মধ্যে নিজের অন্তঃকরণকে গুটিয়ে নিলে তার পরিক্রমণ সার্থক হয় না। এ জন্য চাই দৃষ্টি, নিজেরই ভেতর ঢুকে নিজের গভীরকে দেখা। অতলের ভেতর তলিয়ে গিয়ে আরেক অতলের সাক্ষাৎ পাওয়া। শুধু প্রয়োজন বিশুদ্ধ বেদনাটিকে লালনের আর তার নিরাভরণ আলতো কোমল ব্যথাটুকু ঝরাফুলের মৃদুগন্ধের মতো ছড়িয়ে দেওয়া –
আমার বিস্মৃত বেদনার আভাসটুকু
ঝরাফুলের মৃদুগন্ধের মতো
রেখে দিয়ে যাব তোমার নব বসন্তের হাওয়ায়
তোমার অন্যযুগের সখা, পত্রপুট
এই যে একটুখানি ব্যথা, বিরহের কোমল নির্যাস আধফোটা কলিটির মতো তার নিজস্ব সৌন্দর্য আর সৌরভ নিয়ে বিকিরিত হচ্ছে সেখানেই আছে যথার্থ বিশ্বাসের খোঁজ, প্রেমের অন্বেষণ। এই অন্বেষণের পথে গিয়ে যে গভীরতার স্পর্শ পেয়েছেন তার প্রকাশ হয়েছে একেবারে নিরাভরণ। সাধারণ সন্তের মতো সমস্ত কিছু নেড়ে দেখেছেন, উপভোগ করেছেন বাতাসের সুরেলা রিনিঝিনি আওয়াজ, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন দূর আকাশে মিলিয়ে যাওয়া পাখির রেখা কিংবা শান্তিনিকেতনে বড় বড় গাছের পাতা থেকে বৃষ্টিমাসে টুপটাপ জল ঝরার শব্দ। কখনো কখনো খোয়াইয়ের চিকচিকে বালির চড়ায় একমনে নদীর বয়েচলা জলধারার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কিংবা শান্তিনিকেতনের বিশাল বিশাল থামওয়ালা খোলামেলা বাড়িগুলির প্রতি টান। তিনি চাইতেন তাঁর যাপনের ছন্দে বিশ্ব এসে ধরা দিক, প্রচুর রোদ আলোহাওয়ার সঙ্গে মিশে থাকুক সবুজ ক্লোরোফিলের আভা বা সতেজ গাছের গুঁড়ির সোঁদা গন্ধ, মাটির স্নেহের ওমে ধরা থাকুক কচি খড়ের মৃদু সুবাস। এ সমস্ত কিছুর মধ্যেই বিশ্বজগতের হয়ে ওঠাটির আভাস পেতেন, ছন্দের গুঞ্জনটিকে টের পেতেন। যেন দূরলোকের অসীম যাওয়া-আসাটিকে পাশের বটগাছটির শিকড়ে আর শাখায় সঞ্চালিত হতে দেখছেন। তাঁর শিরায় শিরায় অদ্ভুত চাঞ্চল্য বয়ে নিয়ে আসত সেই রভস ও নাদ।
কতকাল এই বসুন্ধরা
আতিথ্য দিয়েছে ঃ কভু আমমুকুলের গন্ধে ভরা
পেয়েছি আহ্বানবাণী ফাল্গুনের দাক্ষিণ্যে মধুর
অশোকের মঞ্জরী সে ইঙ্গিত চেয়েছে মোর সুর
দিয়েছি তা প্রীতিরসে ভরি
যাবার সময় হল বিহঙ্গের, প্রান্তিক
চিরজীবন রবীন্দ্রনাথ গতিতে বিশ্বাস করে এসেছেন, থেমে যাওয়াকে মৃত্যু বলে মনে করতেন। সেই চলার কথাই তিনি মানেন যেখানে সব জড়ের শিকড়কে টান মেরে ফেলে দেওয়া যায় অনায়াসে, আটপৌরে ঘরোয়া সমস্ত অভিনিবেশের মাঝেও যার গমন ক্রিয়াশীল। এই চলা ধাওয়া নয় যাওয়া। সূর্যের প্রগাঢ় শ্বেত নির্যাসকে এ যেমন আহ্বান করে তেমনি ফুলের নরম খড়খড়ির অধোদেশ অনায়াসে ছুঁয়ে যেতে পারে। মাটির কাঁকর থেকে সমুদ্রের ফেনা সর্বত্রই মিশে আছে এ চলার আহ্বান। আসল কথা মুক্তি। নিজের খোলসকে ভাঙা। খেলতে খেলতে জীবনকে পরখ করে নেওয়া। এই রূপের লীলাকে উপলব্ধি করার জন্যেই বোলপুরে ধু-ধু মাঠ, দিঘল তালগাছ, লাল কাঁকরে ঢাকা রাস্তা, খোয়াইয়ের বালির চাঁচরে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিশ্বপ্রকৃতির এই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কবি থাকতে পারেন নি। আরেকটা কথা স্বভাবের বিরুদ্ধে যেতে চাওয়া তাঁর স্বভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট। আসলে স্বভাবের গভীরে নিহিত থাকা ছাঁচ, ভঙ্গি সর্বস্বতা আর শৈথিল্যকে কোনোদিন বরদাস্ত করেন নি। তাঁর সূক্ষ্ম গভীর এক দ্রোহের পরিচয় আমরা ক্ষণে ক্ষণে পাই এগুলির প্রতি। জড়ের পাথরীভূত অভ্যাস, দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি তাঁকে অহরহ পীড়া দিত। শৈশবেই স্কুলের গণ্ডি টপকে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। প্রকৃতির সঙ্গে এক অকৃত্রিম আদিম প্রাণের যোগ তিনি অনুভব করতেন বলেই সেই রহস্য ও বিস্ময়ে অবগাহন করেছেন বারবার। প্রকৃতির সাড়া কখনোই ফুরিয়ে যায় নি।
‘ছিন্নপত্রাবলী’র তিন সংখ্যক পত্রে লিখেছেন –
পৃথিবী যে বাস্তবিক কী আশ্চর্য সুন্দরী তা কলকাতায় থাকলে ভুলে যেতে হয়। এই যে ছোট নদীর ধারে শান্তিময় গাছপালার মধ্যে সূর্য প্রতিদিন অস্ত যাচ্ছে এবং এই অনন্ত ধূসর নির্জন নিঃশব্দ চরের উপরে প্রতিরাত্রে শত সহস্র নক্ষত্রের নিঃশব্দ অভ্যুদয় হচ্ছে, জগৎ সংসারে এ যে কী একটা আশ্চর্য মহৎ ঘটনা তা এখানে থাকলে তবে বোঝা যায়।
যাঁরা বলেন রোমান্টিক মায়াজাল দিয়ে, মোহ দিয়ে কল্পনার বিলাস দিয়ে কবি প্রকৃতিকে উপস্থাপন করেছেন তা ঠিক নয়। প্রকৃতি কোনোভাবেই তাঁর কাছে কল্পনার লাস্য নয়। প্রকৃতিতে তিনি বারবার কেন ফিরে যেতে চেয়েছেন এর তাৎপর্যকে উপলব্ধি করা দরকার। এ নিছকই প্রকৃতিতে প্রত্যাবর্তন নয়। মানবের মহত্ত্ব, শান্তি আর ঔদার্যকেই খুঁজেছেন তিনি।
‘অকারণ আবরণ চলা’তে অভিভূত হওয়ার দীপ্তি আছে বলেই সেখানে শান্তির বিচ্ছুরণ আছে। আমরা আজ অভিভূত হতে ভুলে গেছি। আমরা শুধু দেখি, আমাদের দেখা দৃষ্টিসাধনাতে উত্তীর্ণ হয় না। আমাদের মনে কোনও বিস্ময় নেই। প্রথম থেকেই সব জান্তা হয়ে বসে আছি। পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানের ভারে আমাদের অন্তঃস্থল থলথল করে উঠছে। প্রকৃতির খুব গভীর নির্জনে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেই অনেকেই প্রশ্ন তোলেন তিনি সমসাময়িক জীবন-যন্ত্রণাকে, সমস্যাকে সাহিত্যে রেখাপাত করেন নি। কিন্তু এ যে কত বড় ভ্রান্তি তা রবীন্দ্ররচনাবলী পড়লেই বোঝা যায়। আসলে রবীন্দ্রনাথের মতো বিরাট প্রতিভাধর ব্যক্তিদের যুগযন্ত্রণা আলোড়িত করে কিন্তু আক্রান্ত করে না, স্পর্শ করে কিন্তু জর্জরিত করে না। তাই এ যন্ত্রণার প্রতিফলন হয় অত্যন্ত গভীরভাবে। সমস্যার খুব গভীরে গিয়ে সমস্যাটিকে স্পর্শ করেন বলেই সমস্যাটির সঙ্গে একাকার হয়ে যায় দেশ-কাল-ইতিহাসের সুগভীর পরম্পরা। কালের প্রবহমান ধারার উপাদানগুলিকে তিনি ছিঁড়ে ছিঁড়ে নয় সমগ্রভাবে দেখতেই পক্ষপাতী। এই সমগ্রতারই খোঁজ মেলে তাঁর সাহিত্যে। ‘পূরবী’র যুগ থেকে কবি ছবি আঁকার কাজে ব্রতী হন। এখানে দেখতে পাওয়া যায় প্রকৃতির বিচিত্র রসকে তিনি নিংড়ে নিয়ে মানবের অধরা ভাষাটিকে ব্যক্ত করতে চাইছেন। সামাজিক, ঐতিহাসিক, আধ্যাত্মিক ও লোকায়ত বলয়ের স্তরে প্রকৃতির সঞ্চারকে সন্ধান করেছিলেন তাঁর আঁকাগুলিতে। প্রকৃতির কাছ থেকেই তিনি পেয়েছিলেন নির্লিপ্তি বা মোহমুক্তির স্বর-
পশ্চিমে বাগান বন চষা ক্ষেত
মিলে গেছে দূর বনান্তে বেগনি বাষ্পরেখায়;
মাঝে আম জাম তাল তেঁতুলে ঢাকা
সাঁওতাল পাড়া;
হঠাৎ উঠছে এক-একটা যূথভ্রষ্ট তালগাছ
খোয়াই, পুনশ্চ
বুঝতে পারি প্রকৃতির এই অনাড়ম্বর উন্মোচনে মিশে আছে দারুণ এক দেখা। যে দেখার ভেতর থিতিয়ে আছে এক জনজাতির নাড়িটিকে ধরার বোধ। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা মানুষদের স্পন্দনকে বুঝতে গেলে আগে প্রকৃতিকে বুঝতে হয়। কেননা প্রকৃতি ও মানুষ অভিন্ন। আরেকটি কবিতার দিকে তাকাই –
দোতলার জানলা থেকে চোখে পড়ে
পুকুরের একটি কোণা।
ভাদ্র মাসের কানায় কানায় জল
জলে গাছের গভীর ছায়া টলমল করছে
সবুজ রেশমের আভায়।
তীরে তীরে কলমি শাক আর হেলঞ্চ।
ঢালু পাড়িতে সুপারি গাছ কটা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
এ ধারের ডাঙায় করবী, সাদা রঙন, একটি শিউলি
দুটি অযত্নের রজনীগন্ধায় ফুল ধরেছে গরীবের মতো
পুকুরধারে, পুনশ্চ
অনেকেই বলতে পারেন এটা একটা পুকুরের বর্ণনা ছাড়া আর কী! কিন্তু অনুভূতিকে আরো একটু নিবিড়ভাবে চালনা করলেই বুঝতে পারা যায় কবি খুব গভীর আর স্থির এক প্রস্ফুটনকে ধরতে চেয়েছেন যেখানে লগ্ন হয়ে আছে সনাতন গ্রামীণ জীবনের ধারা আর বৈচিত্র্য। প্রার্থিব মাটির রসে, জীবন্ত লোকায়ত মানসের নাড়িটিকে অন্বেষণ করাই এখানে প্রধান, প্রকৃতির ভেতর দিয়ে সেই অন্বেষণ রঙিন হয়ে উঠেছে। ‘দুটি অযত্নের রজনীগন্ধায় ফুল ধরেছে গরীবের মতো’ এই অভিজ্ঞতা চিনিয়ে দেয় গ্রামীণ পুকুরটির অন্তঃসার, তাকে জড়িয়ে থাকা মানুষের চলাচল আর জীবনের যাতায়াত।
‘শেষ সপ্তক’ এর ছত্রিশ সংখ্যক কবিতার দিকে তাকালে দেখতে পাই –
শীতের রোদ্দুর।
সোনা মেশা সবুজের ঢেউ
স্তম্ভিত হয়ে আছে সেগুন বনে।
বেগনি ছায়ার ছোঁওয়া লাগা
ঝুরি নামা বৃদ্ধ বট
ডাল মেলছে রাস্তার ওপার পর্যন্ত
প্রকৃতির পুঞ্জিত অভিযোজিত স্তব্ধতায় মিশে আছে প্রাণের গোপন রহস্য। কবি শিল্পীর চোখ দিয়ে সেই নির্জনতার ভাষাটিকে তুলে আনেন। এইখানে মিশে আছে জীবনের গভীরতার ছন্দ, আনকোরা পবিত্র অভিঘাত। যেন এক প্রাচীন স্থাপত্য তার নকশা আঁকা আঁচল ওড়াচ্ছে হাওয়ায়, দূর মেঘে ছুঁয়ে যাচ্ছে রঙিন ঝালর, মাটির অতলে পোঁতা শিকড়ে তার বিস্তার মানুষের প্রবহমানতাকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কবি দেখেন পুরোনো আমরা গাছের হেলে থাকা, কদম ফুলের হলুদ রেণুর বেড়ে ওঠা, সর্ষে তিসি ক্ষেতে রঙের আলিম্পন, শিরীষ বনের গন্ধ, শালের বন্ধন। দেখতে দেখতে নিজের সজীবতা আর সক্রিয়তাকে আরো একটু ঝাঁকিয়ে নেন, গভীর জীবন সমস্যা বিশ্লেষণের ভাষাও খুঁজে পান। নিবেদন না থাকলে কোনো অর্জনই হয় না। দৃষ্টিশক্তি না থাকলে কোনো সংকটকেই স্পর্শ করা যায় না। আজকের যুগে তাই এই দেখা, এই বিস্ময়ে আপ্লুত হওয়া, রহস্যের নাড়িটিকে নাড়াচারা করা বড় প্রয়োজন। নইলে জড়ত্ব আর গতানুগতিকতার বিরাট আগ্রাসন ঠেলে নিজেকে বের করাই হবে সবচাইতে কঠিন।
No comments:
Post a Comment